জামা মসজিদ কি পাকিস্তানে, আদালতে তিরস্কৃত দিল্লি পুলিস

15th January 2020 ভারত
জামা মসজিদ কি পাকিস্তানে,  আদালতে তিরস্কৃত দিল্লি পুলিস


বাংলা খবরঃ অনুমতি ছাড়া দিল্লির জামা মসজিদের সামনে সিএএবিরোধী বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। সেই অপরাধে প্রায় একমাস ধরে জেলবন্দি ভীম আর্মির প্রধান চন্দ্রশেখর আজাদ। মঙ্গলবার তাঁর জামিনের শুনানিতে আদালতে তিরস্কৃত হল দিল্লি পুলিস। তিস হাজারি আদালতের অতিরিক্ত দায়রা বিচারক কামিনী লউ সাফ জানালেন, বিক্ষোভ দেখানো এই দেশের নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার। সংসদের ভিতরে যে যে বিষয় নিয়ে কথা বলা উচিত, তা হয় না বলেই মানুষ রাস্তায় নামে। দিল্লি পুলিসকে তাঁর প্রশ্ন, ‘আপনারা এমন ভাব করছেন যেন জামা মসজিদ পাকিস্তানে! আর পাকিস্তানে হলেও আপনি সেখানে গিয়ে প্রতিবাদ জানাতে পারেন। পাকিস্তান অবিভক্ত ভারতের অংশ ছিল।’
গত বছর ২২ ডিসেম্বর সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) বিরুদ্ধে জামা মসজিদে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিলেন চন্দ্রশেখর। তার ঠিক আগের দিন তাঁকে গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিস। কিন্তু থানায় যাওয়ার আগেই ভিড়ের সুযোগ নিয়ে পুলিসের হাত থেকে পালিয়ে যান তিনি। পরদিন জামা মসজিদে বিক্ষোভ থেকে ভীম আর্মি প্রধানকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। তাঁর বিরুদ্ধে হিংসায় মদত দেওয়ার অভিযোগ দায়ের হয়। এদিন জামিনের শুনানির শুরুতেই উত্তরপ্রদেশে ভীম আর্মি প্রধানের বিরুদ্ধে হওয়া এফআইআরের বিষয়টি না জানার জন্য আদালতের তোপের মুখে পড়েন সরকারি আইনজীবী। তবে, তিনি চন্দ্রশেখরের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টগুলি আদালতের সামনে তুলে ধরে হিংসায় মদত দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।
সরকারি আইনজীবী যখন জামা মসজিদে ধর্নার পোস্টগুলি পড়ে শোনাচ্ছিলেন, তখন বিচারক কামিনী লউ প্রশ্ন করেন, ‘ধর্নায় বসার মধ্যে ভুল কী আছে? প্রতিবাদই বা ভুল কোথায়? এটা তো নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার। হিংসা কোথায়? পোস্টগুলিতে ভুল কী আছে? কে বলেছে প্রতিবাদ করা যাবে না? সংবিধান পড়ে দেখেছেন?’ চন্দ্রশেখরের করা কোনও পোস্টই অসাংবিধানিক নয় বলেও জানিয়ে দেন বিচারক। সরকারি আইনজীবীর যুক্তি ছিল, ১৪৪ ধারা জারি থাকা কোনও জায়গায় বিক্ষোভ দেখানোর জন্য আগাম অনুমতি প্রয়োজন। সেই যুক্তিও খারিজ করে দেন বিচারক। তিনি বলেন, ‘কীসের অনুমতি? সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে বিক্ষোভ রুখতে বারবার ১৪৪ ধারা জারি করা যায় না।’ সংসদের বাইরের প্রতিবাদের প্রসঙ্গ তুলে বিচারক আরও বলেন, ‘আমাকে দেখান, কোন আইনে ধর্মীয় স্থানের বাইরে কাউকে বিক্ষোভ দেখানো থেকে আটকানো যায়?’
সরকারি আইনজীবী অবশ্য জানান, আজাদের প্ররোচনামূলক বক্তব্যের ড্রোন ফুটেজ এবং অন্যান্য প্রমাণ রয়েছে। তবে তা পেশের জন্য সময় লাগবে। আগামীকাল মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। এদিকে, তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের হয়েছে বলে দাবি করেছেন চন্দ্রশেখর।





Others News

দেবেন্দ্রের মামলা এনআইএ-র হাতে

 দেবেন্দ্রের মামলা এনআইএ-র হাতে


নিউজ ডেস্কঃ হিজবুল মুজাহিদিন জঙ্গিদের সঙ্গে গ্রেফতার জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের ডিএসপি দেবেন্দ্র সিংহের মামলা হাতে নিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে দেবেন্দ্র যে হিজবুল জঙ্গিদের নিরাপদে জম্মুতে নামিয়ে আনছিলেন তারা পাক-অধিকৃত কাশ্মীর ও পাকিস্তানে হওয়া দু’টি অভিযানের প্রতিশোধ নিতে দিল্লি, পঞ্জাব অথবা চণ্ডীগড়ে বড় মাপের বিস্ফোরণের ছক কষেছিল। সূত্রের খবর, ধৃত ডিএসপি-কে কাশ্মীরে জিজ্ঞাসাবাদের পরে দিল্লিতে নিয়ে এসে ফের এক দফা জেরা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ দিকে গত বছর লোকসভা ভোটের ঠিক আগে পুলওয়ামায় আধাসেনার কনভয়ে বিস্ফোরণের সময়ে সেখানে দেবেন্দ্রের উপস্থিতি নিয়ে আজ তরজায় জড়িয়ে পড়ে কংগ্রেস ও বিজেপি। 

শনিবার কুলগামের কাছে ধরা পড়েছিলেন দেবেন্দ্রে নামে ওই অফিসার ও জঙ্গিরা। অভিযোগ, ধৃত জঙ্গিদের নিরাপদে জম্মুতে নিয়ে আসার জন্য জঙ্গি পিছু ১২ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন ওই অফিসার। গত ক’দিন ধরে উপত্যকায় প্রবল তুষারপাতের কারণে সড়কে যাতায়াত কার্যত বন্ধ রয়েছে। সূত্রের খবর, সে কারণে আপাতত কাজিগুণ্ডের কাছে রাখা হয়েছে ওই পুলিশ অফিসার ও জঙ্গিদের। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিশেষ মর্যাদা লোপের পরে কাশ্মীরে নজরদারি বাড়ায় সমতলে হামলার ছক কষছিল ওই জঙ্গিরা। গোয়েন্দাদের একটি সূত্রের দাবি, হামলার পরিকল্পনায় দেবেন্দ্রের মোবাইল ফোনও ব্যবহার করে তারা। অন্য জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়াও অস্ত্র-গোলাবারুদের জোগান সম্পর্কিত আলোচনা হয় ওই ফোনের মাধ্যমে। জঙ্গিদের সঙ্গে দেবেন্দ্রের ঘনিষ্ঠতা কোন পর্যায়ে গিয়েছিল, বাহিনীর আর কোনও অফিসার অর্থের বিনিময়ে জঙ্গিদের হয়ে কাজ করেন কি না তাও খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্র জানিয়েছে, দেবেন্দ্রের নামে থাকা পুরনো অভিযোগের ফাইল খোলা হচ্ছে। ২০০১ সালে সংসদ হামলায় অন্যতম দোষী আফজল গুরু ওই কাণ্ডে দেবেন্দ্রের জড়িত থাকার অভিযোগ করেছিল। আফজলের অভিযোগ ছিল, দেবেন্দ্রের চাপে পড়েই তাকে সংসদ হামলাকারী এক জঙ্গির দিল্লিতে থাকা ও গাড়ির ব্যবস্থা করে দিতে হয়েছিল। আফজলের সেই পুরনো অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন ডিআইজি ইশরার খানের কথায়, ‘‘ওই ব্যক্তির নামে তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে। কিছু পুলিশ অফিসার টাকার লোভে এই ধরনের কাজ করে বাহিনীর বদনাম করে।’’ আজই কেন্দ্র জানিয়েছে, দেবেন্দ্র সিংহ কোনও রাষ্ট্রপতি পদক পাননি। তবে ২০১৭ সালে পুলওয়ামাতে জঙ্গি দমনে সাহসিকতার জন্য রাজ্যস্তরে মেডেল দিয়ে সম্মানিত করেছিল জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন।