মাদ্রাসা গুলিতে সাত হাজার শিক্ষক শিক্ষিকা নিয়োগ

8th January 2020 পশ্চিমবঙ্গ
মাদ্রাসা গুলিতে সাত হাজার শিক্ষক শিক্ষিকা নিয়োগ


কলকাতা: সুপ্রিম কোর্টের রায়ে রাজ্যের মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন বৈধতা পেয়ে যাওয়ায়, তার মাধ্যমে প্রায় সাত হাজার শূন্যপদ পূরণের প্রক্রিয়া এবার শুরু করা যাবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট মহল। রাজ্যে সরকারি সাহায্যে চলা ৬১৪টি মাদ্রাসায় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী মিলিয়ে ওই সংখ্যক শূন্যপদ রয়েছে। দীর্ঘ আইনি লড়াই চলার জন্য ২০১৪ সালের পর মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগের কোনও পরীক্ষা নিতে পারেনি। ফলে শূন্যপদের সংখ্যা অনেক বেড়ে গিয়েছে। মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ জানিয়েছেন, স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে সাধারণত তাঁদের পরীক্ষা নেওয়া হতো। সেটা নেওয়া যাচ্ছিল না। তবে ২০১৪ সালের পরীক্ষার ভিত্তিতে সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ বেশ কয়েকমাস আগে করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশে এটা করা হয়। যদিও গ্রুপ ডি সহ শিক্ষাকর্মী, প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রভৃতি যে করা যায়নি, তা চেয়ারম্যান মেনে নিয়েছেন।
মাদ্রাসা শিক্ষকদের সংগঠনের নেতা ইসরারুল হক মণ্ডল অবশ্য জানিয়েছেন, ২০১৪ সালের পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তিতে মাদ্রাসাগুলিতে ৩১৮৩ জন শিক্ষক নিয়োগ করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের ২০১৮ সালের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে নিয়োগ করা হয়েছে ১৯৮০ জনকে। মাদ্রাসাগুলির শিক্ষক পদে পাঁচ হাজারের বেশি শূন্যপদ আছে। শূন্য শিক্ষাকর্মীর সংখ্যা দেড় হাজারের বেশি। দেড়শো প্রধান শিক্ষকের পদও শূন্য। পাঁচটি মাদ্রাসা কোনও স্থায়ী শিক্ষক ছাড়াই চলছে বলে তাঁর অভিযোগ। শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর অভাবে পড়াশোনার কাজ খুবই ব্যাহত হচ্ছে।
সরকারি সাহায্যে চলা কয়েকটি মাদ্রাসার পরিচালন কমিটির দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আইনগত জটিলতা তৈরি হয়। রাজ্য সরকার ২০০৮ সালে যে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন তৈরি করে, তা সংবিধান বিরোধী বলে হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়েছিল। মামলাকারীদের বক্তব্য ছিল, সংখ্যালঘু পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ করা যায় না। মাদ্রাসার পরিচালন কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ করতে হবে। হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ প্রথমে ও পরে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ডিভিশন বেঞ্চ তাদের রায়ে জানিয়ে দেয়, মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন অসাংবিধানিক। আগে যে নিয়োগগুলি তাদের মাধ্যমে হয়েছে, তাদের ব্যাপারেও পরিচালন কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়। এই রায়ের কয়েক মাসের মধ্যে রাজ্য সরকারের মাদ্রাসা দপ্তর বিজ্ঞপ্তি জারি করে মাদ্রাসার পরিচালন কমিটির হাতে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগ করার অধিকার দেয়। হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যায় মাদ্রাসা শিক্ষকদের সংগঠন। হাইকোর্টের রায়ের উপর ২০১৬ সালের মার্চ মাসে স্থগিতাদেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু স্থগিতাদেশের আগে সরকারি বিজ্ঞপ্তির সুযোগ নিয়ে কয়েকটি মাদ্রাসার পরিচালন কমিটি সরাসরি ৪১ জন শিক্ষক নিয়োগ করে ফেলে। ওই শিক্ষকদের চাকরি অবশ্য থাকছে বলে চূড়ান্ত রায়ে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে।
মাদ্রাসা শিক্ষকদের সংগঠনের বক্তব্য, নতুন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগ করতে না পারা ছাড়াও শিক্ষকদের বদলি সংক্রান্ত আবেদনের নিষ্পত্তিও করা যাচ্ছিল না। প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষকের বদলির আবেদন আটকে আছে। মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন এবার পুরোমাত্রায় কাজ করতে পারার পর বদলির আবেদনগুলির নিষ্পত্তি হবে বলে শিক্ষক সংগঠনের আশা।





Others News

‘কাশ্মীরের ধৃত DSP সিং না হয়ে খান হলে কী হত?’, বিজেপিকে জিজ্ঞাসা অধীরের

‘কাশ্মীরের ধৃত DSP সিং না হয়ে খান হলে কী হত?’, বিজেপিকে জিজ্ঞাসা অধীরের


নিউজ ডেস্কঃ জঙ্গিদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছে কাশ্মীরের ডি এস পি দেবেন্দ্র সিং। তাকে জেরা করে জানা গিয়েছে, এই কাজের জন্য ১২ লক্ষ টাকা নিয়েছিল সে। তদন্তে আরও জানা যায়, ২০০১ সালের সংসদ হামলার মূলচক্রী হিসেবে ফাঁসিতে ঝোলা আফজল গুরুকে দিল্লিতে এক জঙ্গিকে লুকিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছিল দেবেন্দ্র। সেই জঙ্গিই পরে সংসদে হামলা চালায়। শুধু এই ঘটনাই নয়, দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই জঙ্গিদের সাহায্য করেছে সে। এই বিষয়গুলি প্রকাশ্যে আসার পরই কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করেছেন বহরমপুরের কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরি। সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, ধৃত ডি এস পি দেবেন্দ্র সিং যদি শিখ না হয়ে মুসলিম হত তা হলে কী হত? এত বড় মাপের একজন পুলিশ আধিকারিক গ্রেপ্তার হওয়ার পরে পুলওয়ামার জঙ্গি হামলার ঘটনার ফের তদন্ত করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার এই বিষয়ে একাধিক টুইট করে কোনওভাবেই দেশের শত্রুদের যাতে ছাড়া না হয় তার পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। এক্ষেত্রে যেন তাদের ধর্ম ও সামাজিক পরিচয় কোনও প্রভাব ফেলতে না পারে সেকথাও উল্লেখ করেন। টুইট করে প্রশ্ন করেন, ‘দেবেন্দ্র সিংয়ের বদলে ওই ডিএসপি’র নাম যদি দেবেন্দ্র খান হত। তাহলে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ -র ট্রোল রেজিমেন্টের আক্রমণ আরও তীব্র ও কৌতূকপূর্ণ হত। আমাদের দেশের শত্রুদের শরীরের রং, বর্ণ এবং ধর্ম নির্বিশেষে নিন্দিত হওয়া উচিত।’