শিক্ষক চাই, বিক্ষোভ দাঁতন স্কুলে

4th January 2020 পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর
শিক্ষক চাই, বিক্ষোভ দাঁতন স্কুলে


বাংলা খবরঃ বৃহস্পতিবার দাঁতনের মালযমুনা কালীপ্রসন্ন স্মৃতি বিদ্যাপীঠের ভিতরে আটকে রইলেন শিক্ষা প্রশাসনের আধিকারিকেরা। বন্ধ স্কুলগেটের বাইরে তাঁবুতে রইল খুদেরা। সঙ্গে অভিভাবক আর ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহলের বিক্ষোভকারীরা। দাবি, সাঁওতালি মাধ্যম স্কুলে স্থায়ী শিক্ষক দিতে হবে। বাড়াতে হবে পরিকাঠামো। মূলত এই দুই দাবিতে বৃহস্পতিবার স্কুল শুরুর আগে থেকেই শুরু হয়েছিল অবস্থান বিক্ষোভ। ফলে ক্লাস হয়নি বৃহস্পতিবার। রাতভর বিক্ষোভের পর শুক্রবার দুপুরে বেলদা মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সুমনকান্তি ঘোষের হস্তক্ষেপে ঘেরাও মুক্ত হন শিক্ষা আধিকারিকেরা। তারপর অবস্থান-বিক্ষোভ উঠলেও তার জেরে ক্লাস হয়নি এ দিনও।বিক্ষোভের খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে মালযমুনা কালীপ্রসন্ন স্মৃতি বিদ্যাপীঠে হাজির হন খড়্গপুর মহকুমা অ্যাসিস্ট্যান্ট ইন্সপেক্টর অব স্কুল, দাঁতন ১ যুগ্ম বিডিও, দাঁতন চক্রের বিদ্যালয় পরিদর্শক। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন তাঁরা। আলোচনায় ছিলেন প্রধান শিক্ষক এবং কয়েক জন সহকারী শিক্ষক। দফায় দফায় হয় আলোচনা। কিন্তু সমাধানসূত্র মেলেনি। শিক্ষা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকেও লাভ হয়নি। ফলে ঘেরাও হয়েই থাকতে হয় আধিকারিকদের।

স্কুলের একটি ঘরেই হয় থাকার আয়োজন। স্কুলে রয়েছে হস্টেল। সেখানেই রান্না হয় ডিম-ভাত। রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে শীত বাড়ে। কোনওক্রমে রাত কাটে যুগ্ম বিডিও, শিক্ষা আধিকারিকদেরও। প্রধান শিক্ষক সৌমেন বাগ বলেন, ‘‘হস্টেলে রান্না করে খাওয়া হয়েছে। সারারাত ঘুম হয়নি। ওরা ধামলা, মাদল বাজিয়েছে সারারাত। আধিকারিকদের নিয়ে খুব খারাপ পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে।’’ খড়্গপুর মহকুমা অ্যাসিস্ট্যান্ট ইন্সপেক্টর অব স্কুল মানস সামন্ত বলেন, ‘‘বারবার আলোচনা হয়েছে। তবে দাবি থেকে ওরা সরতে চাননি। ফলে ঘেরাও হয়ে থাকতে হয়েছে সারারাত। কষ্ট হয়েছে। সে আর কী করা যাবে।’’

কষ্ট হয়েছে পড়ুয়াদেরও। তাঁবুতেই রাত কেটেছে তাদের। পড়ুয়া, অভিভাবক ও ভারত জাকাত পারগানার সদস্যদের জন্য খিচুড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। গভীর রাত পর্যন্ত বেজেছে ধামসা-মাদল। উঠেছে স্লোগান। ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহলের দাঁতন রাজগাড় মুলুক শাখার নেতৃত্ব সূর্যকান্ত মুর্মু বলেন, ‘‘গত ২৭ নভেম্বর জেলা, রাজ্য ও শিক্ষামন্ত্রীকে বিষয়টি জানানো হয়। কোনও পদক্ষেপ হয়নি। নতুন বিদ্যালয়ের অনুমতি ও চারজন স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে।’’ এদিন দুপুরে বেলদা মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সুমনকান্তি ঘোষ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। প্রশাসন জেলা নেতৃত্বকে আশ্বস্ত করার পরেই আন্দোলন তোলা হয়। ঘেরাও মুক্ত করে দেওয়া হয় আধিকারিকদের। জেলা নেতৃত্ব রবীন্দ্রনাথ মুর্মু বলেন, ‘‘আগামী ৬ জানুয়ারি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক হবে। সেখানে কোনও সমাধান না হলে ফের বৃহত্তর আন্দোলনে যাব।’’ ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের নিয়ে সারারাত ধরে আন্দোলন ? রবীন্দ্রনাথের মন্তব্য, ‘‘আমাদের কোনও উপায় ছিল না। অভিভাবকদেরও চাপ ছিল           আমাদের ওপর।’’

বেলদা মহকুমা পুলিশ আধিকারিক বলেন, ‘‘আন্দোলনে পাঁচজন শিক্ষক যুক্ত ছিলেন। প্রয়োজনে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’ আর জেলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক চাপেশ্বর সর্দার বলেন, ‘‘যে মূল দুটি দাবি তা নিয়ে আমাদের তো কিছু করার নেই। রাজ্য দফতরে সমস্ত বিষয়টি লিখিত জানিয়েছি।’’





Others News

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা থেকে প্রায় ৪ হাজার অভিযোগ গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা থেকে প্রায় ৪ হাজার অভিযোগ গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে


বাংলা খবরঃ শুধু পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা থেকেই প্রায় ৪ হাজার অভিযোগ গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের ‘গ্রিভান্স অ্যান্ড রিড্রেসাল সেল’-এ। মানুষের মন বুঝতে কয়েক মাস আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে নবান্নে ওই সেল খোলা হয়েছে। টোল ফ্রি ফোন নম্বরের সঙ্গে দেওয়া হয়েছে ই-মেল আইডি ও হোয়াটস্অ্যাপ নম্বর। তবে অভিযোগের নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের একাংশের ঢিলেমি রয়েছে বলে নালিশ অভিযোগকারীদের একাংশের।

জেলা প্রশাসনের এক সূত্রে খবর, ওই সেলে কোনও অভিযোগ পৌঁছনোর পরে জেলার কাছে ‘অ্যাকশন টেকন রিপোর্ট’ (এটিআর) তলব করা হয়। সেখানে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঠিক কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে সেটা জানাতে বলা হয়। ওই সূত্রে খবর, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত নবান্ন হয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরে ৩,৮১৬টি অভিযোগ এসেছে। তার মধ্যে ২,৩১৯টির ক্ষেত্রে জেলা থেকে ‘অ্যাকশন টেকন রিপোর্ট’ পাঠানো হয়েছে। বাকি অভিযোগগুলি এখনও পড়েই রয়েছে। জানা যাচ্ছে, ৩,৮১৬টি অভিযোগের মধ্যে ৩,৭৬৬টি অভিযোগই এসেছে নভেম্বরের মধ্যে। বেশিরভাগ অভিযোগই রাস্তা সংক্রান্ত। এছাড়া সেতু, সরকারি প্রকল্পের ঘর, পেনশন, ভাতা, স্কলারশিপ, কন্যাশ্রী, সবুজসাথী, জাতিগত শংসাপত্র, পুলিশি নিস্ক্রিয়তা প্রভৃতি নানা বিষয় নিয়ে অভিযোগও এসেছে।

মাস তিনেক আগে এই পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায় এক প্রশাসনিক বৈঠকে এসে মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে সরকারি কাজে দেরি হলে তিনি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেরি করবেন না। পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে যে তাঁর কাছে অভিযোগ বেশি যাচ্ছে তাও জানিয়েছিলেন তিনি। তারপরেও অভিযোগের নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ঢিলেমি কেন? জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিকের আশ্বাস, ‘‘কোথায় কত অভিযোগ পড়ে রয়েছে, কেন পড়ে রয়েছে, সে সব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’ তিনি জানাচ্ছেন, ইতিমধ্যেই পুরো পদ্ধতিকে অনলাইন করা হয়েছে। 

পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক রশ্মি কমল বলেন, ‘‘বেশ কিছু অভিযোগ এসেছে। রাস্তাঘাট, সরকারি প্রকল্পের ঘর নিয়েও কিছু অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগগুলির একে একে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। সমস্যাগুলিরও সুরাহা করা হচ্ছে।’’