পশ্চিমবঙ্গ সহ বেশিরভাগ রাজ্য তৈরি না হলেও এক দেশ এক রেশন কার্ড চালু করল কেন্দ্র

2nd January 2020 ভারত
পশ্চিমবঙ্গ সহ বেশিরভাগ রাজ্য তৈরি না হলেও এক দেশ এক রেশন কার্ড চালু করল কেন্দ্র


নয়াদিল্লি, à§§ জানুয়ারি: পশ্চিমবঙ্গ সহ বেশিরভাগ রাজ্য এখনও তৈরি না হলেও আজ থেকে ‘এক দেশ, এক রেশন কার্ড’ ব্যবস্থা শুরু করে দিল মোদি সরকার। প্রাথমিকভাবে ১২ টি রাজ্যে এটি শুরু হল। ধীরে ধীরে অন্য রাজ্যগুলিকে সহমতে এনে জুন মাসের মধ্যে ‘পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম নেটওয়ার্ক’ (পিডিএসএন) নামে গোটা দেশেই এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে। উল্লেখ্য, আগে ঠিক ছিল আগামী à§§à§« জানুয়ারি এই ব্যবস্থা শুরু হবে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মতো নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে তা কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় খাদ্য ও গণবণ্টনমন্ত্রক।
জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গ্রাহকদের সরকার সস্তায় চাল, গম, শস্যদানা দিলেও অনেকে সময়ই কাজের সন্ধানে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে যাওয়া গরিবরা ঠিক মতো রেশন পায় না বলেই কেন্দ্রের রিপোর্ট। তাই অন্য রাজ্যে কাজে গিয়েও কী করে গরিবরা প্রাপ্য সস্তার রেশন পেতে পারেন, তারই উদ্দেশ্যে ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান রেশন কার্ড’ ব্যবস্থা চালু করল মোদি সরকার।
পাইলট প্রকল্প হিসেবে অন্ধ্রপ্রদেশ-তেলেঙ্গানা, গুজরাত-মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা-রাজস্থান এবং কর্ণাটক-কেরলের মতো দুটি পার্শ্ববর্তী রাজ্যের মধ্যে বিষয়টি শুরু হয়। তার সাফল্য দেখেই গোটা দেশে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। উল্লেখিত আটটি রাজ্যের পাশাপাশি গোয়া, মধ্যপ্রদেশ, ত্রিপুরা এবং ঝাড়খণ্ডেও তা চালু হল। এই ব্যবস্থায় এবার উল্লেখিত ১২ টি রাজ্যের যেকোনও গ্রাহক কর্মসূত্রে ওই রাজ্যগুলির যেকোনও জায়গাতেই সুবিধা পাবেন।
যদিও এই ব্যবস্থায় রেশনে খাদ্যসামগ্রীর সেব রাখার সমস্যার পাশাপাশি চাল, গম সংগ্রহ করার ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হবে বলেই দাবি করেছেন সারা ভারতের রেশন দোকানদের সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া ফেয়ারপ্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু। তিনি বলেন, প্রতিটি রেশন দোকানে গ্রাহক সংখ্যা নির্দিষ্ট। সেই হিসেব মতোই দোকানদাররা সরকারের থেকে খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করে। কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় কে কোথায় কবে রেশন তুলবেন, তার হিসেব রাখা সমস্যা হবে। দোকানদার আর্থিকভাবেও মার খাবে ব঩লেও তাঁর অভিযোগ। কেবল রেশন দোকানদাররাই নন। সম্প্রতি সংসদেও ‘এক দেশ এক রেশন কার্ড’ ইস্যুতে সরব হয়েছিল তৃণমূল।





Others News

দেবেন্দ্রের মামলা এনআইএ-র হাতে

 দেবেন্দ্রের মামলা এনআইএ-র হাতে


নিউজ ডেস্কঃ হিজবুল মুজাহিদিন জঙ্গিদের সঙ্গে গ্রেফতার জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের ডিএসপি দেবেন্দ্র সিংহের মামলা হাতে নিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে দেবেন্দ্র যে হিজবুল জঙ্গিদের নিরাপদে জম্মুতে নামিয়ে আনছিলেন তারা পাক-অধিকৃত কাশ্মীর ও পাকিস্তানে হওয়া দু’টি অভিযানের প্রতিশোধ নিতে দিল্লি, পঞ্জাব অথবা চণ্ডীগড়ে বড় মাপের বিস্ফোরণের ছক কষেছিল। সূত্রের খবর, ধৃত ডিএসপি-কে কাশ্মীরে জিজ্ঞাসাবাদের পরে দিল্লিতে নিয়ে এসে ফের এক দফা জেরা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ দিকে গত বছর লোকসভা ভোটের ঠিক আগে পুলওয়ামায় আধাসেনার কনভয়ে বিস্ফোরণের সময়ে সেখানে দেবেন্দ্রের উপস্থিতি নিয়ে আজ তরজায় জড়িয়ে পড়ে কংগ্রেস ও বিজেপি। 

শনিবার কুলগামের কাছে ধরা পড়েছিলেন দেবেন্দ্রে নামে ওই অফিসার ও জঙ্গিরা। অভিযোগ, ধৃত জঙ্গিদের নিরাপদে জম্মুতে নিয়ে আসার জন্য জঙ্গি পিছু ১২ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন ওই অফিসার। গত ক’দিন ধরে উপত্যকায় প্রবল তুষারপাতের কারণে সড়কে যাতায়াত কার্যত বন্ধ রয়েছে। সূত্রের খবর, সে কারণে আপাতত কাজিগুণ্ডের কাছে রাখা হয়েছে ওই পুলিশ অফিসার ও জঙ্গিদের। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিশেষ মর্যাদা লোপের পরে কাশ্মীরে নজরদারি বাড়ায় সমতলে হামলার ছক কষছিল ওই জঙ্গিরা। গোয়েন্দাদের একটি সূত্রের দাবি, হামলার পরিকল্পনায় দেবেন্দ্রের মোবাইল ফোনও ব্যবহার করে তারা। অন্য জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়াও অস্ত্র-গোলাবারুদের জোগান সম্পর্কিত আলোচনা হয় ওই ফোনের মাধ্যমে। জঙ্গিদের সঙ্গে দেবেন্দ্রের ঘনিষ্ঠতা কোন পর্যায়ে গিয়েছিল, বাহিনীর আর কোনও অফিসার অর্থের বিনিময়ে জঙ্গিদের হয়ে কাজ করেন কি না তাও খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্র জানিয়েছে, দেবেন্দ্রের নামে থাকা পুরনো অভিযোগের ফাইল খোলা হচ্ছে। ২০০১ সালে সংসদ হামলায় অন্যতম দোষী আফজল গুরু ওই কাণ্ডে দেবেন্দ্রের জড়িত থাকার অভিযোগ করেছিল। আফজলের অভিযোগ ছিল, দেবেন্দ্রের চাপে পড়েই তাকে সংসদ হামলাকারী এক জঙ্গির দিল্লিতে থাকা ও গাড়ির ব্যবস্থা করে দিতে হয়েছিল। আফজলের সেই পুরনো অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন ডিআইজি ইশরার খানের কথায়, ‘‘ওই ব্যক্তির নামে তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে। কিছু পুলিশ অফিসার টাকার লোভে এই ধরনের কাজ করে বাহিনীর বদনাম করে।’’ আজই কেন্দ্র জানিয়েছে, দেবেন্দ্র সিংহ কোনও রাষ্ট্রপতি পদক পাননি। তবে ২০১৭ সালে পুলওয়ামাতে জঙ্গি দমনে সাহসিকতার জন্য রাজ্যস্তরে মেডেল দিয়ে সম্মানিত করেছিল জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন।