৪৬ কোটি টাকায় অসমে ডিটেনশন ক্যাম্প, ভিডিও প্রকাশ করলেন রাহুল

27th December 2019 ভারত
৪৬ কোটি টাকায় অসমে ডিটেনশন ক্যাম্প, ভিডিও প্রকাশ করলেন রাহুল


ডিটেনশন ক্যাম্পঃ   অসমের ডিটেনশন ক্যাম্পের একটি ভিডিও প্রকাশ করে আজ নরেন্দ্র মোদিকে মিথ্যাবাদী আখ্যা দিলেন রাহুল গান্ধী। মোদিকে আরএসএসের প্রধানমন্ত্রী বলেও ট্যুইটারে তোপ দাগলেন। আর তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে আজ দিনভর তোলপাড় হয়। কংগ্রেস-বিজেপির মধ্যে চলে বাগযুদ্ধ ও ট্যুইট লড়াই। রাহুল প্রধানমন্ত্রীকে মিথ্যাবাদী বলতেই তাঁকে পাল্টা মিথ্যুক বলে তোপ দাগল বিজেপি। নরেন্দ্র মোদিকে পারফর্মার আখ্যা দিয়ে বিজেপির মুখপাত্র সম্বিত পাত্র বললেন, রাহুল গান্ধী জানেনই না প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রধানমন্ত্রী আরএসএস-এর নন।
রাজঘাটে গান্ধী সমাধিতে ‘সত্যাগ্রহ’ সভার পর এনআরসি ইস্যুতে আরও আক্রমণাত্মক হলেন রাহুল গান্ধী। একটি ভিডিও ফুটেজকে অস্ত্র করে বেআইনি নাগরিকদের ডিটেনশন ক্যাম্প প্রসঙ্গে নরেন্দ্র মোদিকে সরাসরি মিথ্যাবাদী আখ্যা দিলেন। গোটা দেশে কোনও ডিটেনশন ক্যাম্প নেই বলে রবিবার রাজধানীর রামলীলা ময়দানে মন্তব্য করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। মোদির ওই বক্তব্যকে মিথ্যা আখ্যা দেন রাহুল। অসমের মাটিয়ায় নির্মীয়মাণ ডিটেনশন ক্যাম্পের ভিডিও ফুটেজ জুড়ে তাঁর মন্তব্যের যৌক্তিকতা প্রমাণের চেষ্টা করেন। রামলীলায় প্রধানমন্ত্রী ঠিক যেভাবে কংগ্রেসকে কোণঠাসা করতে ডিটেনশন ক্যাম্পের প্রসঙ্গটি তিনবার মিথ্যা বলেছিলেন, আজ একইভাবে তার পাল্টা রাহুলও ঝুট, ঝুট, ঝুট বলে তোপ দাগলেন।
পাল্টা সওয়াল খাড়া করল বিজেপিও। দলের আইটি সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত অমিত মালব্য ২০১১ সালের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর একটি বিবৃতি ট্যুইট করে রাহুলকে পাল্টা চেপে ধরেন। বলেন, বিবৃতিটা দেখুন। যেখানে তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকারই বলছে, অসমে ৩৬২ জন বেআইনি অনুপ্রবেশকারীকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে। মানুষ আপনাদের প্রত্যাখান করেছে বলে এভাবে ঘৃণার রাজনীতি করবেন?
তাঁর বক্তব্যের আবার পাল্টা মন্তব্য করেছেন কংগ্রেস মুখপাত্র অজয় মাকেন। তিনি বলেন, ‘উল্টা চোর কোতোয়াল কো ডাটে’র মতো বিষয় হল! রাহুল গান্ধী কোথায় বললেন যে ডিটেনশন ক্যাম্প নেই? সেতো প্রধানমন্ত্রী বলছেন। এখন তো নরেন্দ্র মোদিরই জবাব দেওয়ার কথা। রাহুল গান্ধী এদিন বিবিসি টেলিভিশনের যে ভিডিও ফুটেজকে অস্ত্র করেছেন, সেখানে বলা হয়েছে, অসমের মাটিয়ায় ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরি হচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এর জন্য ৪৬ কোটি টাকা খরচ করছে। à§©à§§ ডিসেম্বরের মধ্যে সেই ডিটেশন ক্যাম্প সম্পূর্ণ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মাত্র ৭০ শতাংশ কাজ হওয়ায় ২০২০’র মার্চ মাসের মধ্যে তা সম্পূর্ণ করার টার্গেট নেওয়া হয়েছে।
ওই ভিডিও’র পাশাপাশি দলীয় প্রতিনিধি পাঠিয়েও অসমের এনআরসিতে বাদ পড়ে যাওয়া লোকজন সম্পর্কেই খোঁজ নিয়েছেন রাহুল। তিনি শীঘ্রই অসম যাওয়ার পরিকল্পনাও করছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।





Others News

দেবেন্দ্রের মামলা এনআইএ-র হাতে

 দেবেন্দ্রের মামলা এনআইএ-র হাতে


নিউজ ডেস্কঃ হিজবুল মুজাহিদিন জঙ্গিদের সঙ্গে গ্রেফতার জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের ডিএসপি দেবেন্দ্র সিংহের মামলা হাতে নিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে দেবেন্দ্র যে হিজবুল জঙ্গিদের নিরাপদে জম্মুতে নামিয়ে আনছিলেন তারা পাক-অধিকৃত কাশ্মীর ও পাকিস্তানে হওয়া দু’টি অভিযানের প্রতিশোধ নিতে দিল্লি, পঞ্জাব অথবা চণ্ডীগড়ে বড় মাপের বিস্ফোরণের ছক কষেছিল। সূত্রের খবর, ধৃত ডিএসপি-কে কাশ্মীরে জিজ্ঞাসাবাদের পরে দিল্লিতে নিয়ে এসে ফের এক দফা জেরা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ দিকে গত বছর লোকসভা ভোটের ঠিক আগে পুলওয়ামায় আধাসেনার কনভয়ে বিস্ফোরণের সময়ে সেখানে দেবেন্দ্রের উপস্থিতি নিয়ে আজ তরজায় জড়িয়ে পড়ে কংগ্রেস ও বিজেপি। 

শনিবার কুলগামের কাছে ধরা পড়েছিলেন দেবেন্দ্রে নামে ওই অফিসার ও জঙ্গিরা। অভিযোগ, ধৃত জঙ্গিদের নিরাপদে জম্মুতে নিয়ে আসার জন্য জঙ্গি পিছু ১২ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন ওই অফিসার। গত ক’দিন ধরে উপত্যকায় প্রবল তুষারপাতের কারণে সড়কে যাতায়াত কার্যত বন্ধ রয়েছে। সূত্রের খবর, সে কারণে আপাতত কাজিগুণ্ডের কাছে রাখা হয়েছে ওই পুলিশ অফিসার ও জঙ্গিদের। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিশেষ মর্যাদা লোপের পরে কাশ্মীরে নজরদারি বাড়ায় সমতলে হামলার ছক কষছিল ওই জঙ্গিরা। গোয়েন্দাদের একটি সূত্রের দাবি, হামলার পরিকল্পনায় দেবেন্দ্রের মোবাইল ফোনও ব্যবহার করে তারা। অন্য জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়াও অস্ত্র-গোলাবারুদের জোগান সম্পর্কিত আলোচনা হয় ওই ফোনের মাধ্যমে। জঙ্গিদের সঙ্গে দেবেন্দ্রের ঘনিষ্ঠতা কোন পর্যায়ে গিয়েছিল, বাহিনীর আর কোনও অফিসার অর্থের বিনিময়ে জঙ্গিদের হয়ে কাজ করেন কি না তাও খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্র জানিয়েছে, দেবেন্দ্রের নামে থাকা পুরনো অভিযোগের ফাইল খোলা হচ্ছে। ২০০১ সালে সংসদ হামলায় অন্যতম দোষী আফজল গুরু ওই কাণ্ডে দেবেন্দ্রের জড়িত থাকার অভিযোগ করেছিল। আফজলের অভিযোগ ছিল, দেবেন্দ্রের চাপে পড়েই তাকে সংসদ হামলাকারী এক জঙ্গির দিল্লিতে থাকা ও গাড়ির ব্যবস্থা করে দিতে হয়েছিল। আফজলের সেই পুরনো অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন ডিআইজি ইশরার খানের কথায়, ‘‘ওই ব্যক্তির নামে তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে। কিছু পুলিশ অফিসার টাকার লোভে এই ধরনের কাজ করে বাহিনীর বদনাম করে।’’ আজই কেন্দ্র জানিয়েছে, দেবেন্দ্র সিংহ কোনও রাষ্ট্রপতি পদক পাননি। তবে ২০১৭ সালে পুলওয়ামাতে জঙ্গি দমনে সাহসিকতার জন্য রাজ্যস্তরে মেডেল দিয়ে সম্মানিত করেছিল জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন।