NPR নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের

25th December 2019 ভারত
NPR নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের


নিউজ ডেস্কঃ এনআরসি নিয়ে দেশজুড়ে চলা বিতর্ক, সংশয় এবং আশঙ্কার মধ্যেই আজ কেন্দ্রীয় সরকার জাতীয় জনসংখ্যা পঞ্জিকরণ (এনপিআর) এবং জনগণনা (সেন্সাস) প্রক্রিয়ার অনুমোদন দিল। জনগণনার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে à§® হাজার ৭৫৪ কোটি টাকা এবং এনপিআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অর্থবরাদ্দ হয়েছে à§© হাজার ৯৪১ কোটি টাকা। সবমিলিয়ে দু’টি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ প্রায় à§§à§© হাজার কোটি টাকা। এনপিআর নিয়ে যাতে নতুন করে বিক্ষোভের আগুনে ঘৃতাহুতি না হয়, তা নিশ্চিত করতে সরকার আজ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এই ঘোষণার সময় চরম সতর্কতা অবলম্বন করেছে। এমনকী যে চড়া সুরে এতদিন ধরে অমিত শাহ বলে এসেছেন, এনআরসি হরেই, তার ঠিক বিপরীত নরম সুরে আজ প্রকাশ জাভরেকর এবং পীযুষ গোয়েলের মতো মন্ত্রীরা বারংবার বলেছেন, এনপিআর নিয়ে আশঙ্কার সামান্যতম কারণও নেই। এই প্রক্রিয়াটি শুধু বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংখ্যার একটা সামগ্রিক তালিকা তৈরি করা। এই প্রক্রিয়ায় কোনওরকম নথিপত্র, পরিচয়পত্র কিছুই দেখাতে হবে না। শুধুমাত্র আবেদনপত্রে জানিয়ে দিতে হবে নিজেদের নাম-ধাম-ঠিকানা। সবটাই হবে স্বঘোষিত বা সেল্ফ ডিক্লারেশন। এনপিআর প্রক্রিয়ার পর শুরু হবে জনগণনা। কিন্তু এনপিআর কী এনআরসি’রই পূর্বপ্রস্তুতি? এই প্রশ্নের উত্তরে তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রী প্রকাশ জাভরেকর বলেছেন, এনপিআর এর সঙ্গে এনআরসি’র কো‌নও সম্পর্কই নেই। ২০১০ সালেও ইউপিএ সরকারের আমলে জনগণনার সময় এনপিআর হয়েছিল। নিয়ম হল, প্রত্যেক ১০ বছর অন্তর এনপিআর হবে প্রত্যেকটি জনগণনা প্রক্রিয়ার সঙ্গেই। এনপিআর প্রক্রিয়ায় কে বৈধ, কে অবৈধ নাগরিক, এসব যাচাইয়ের প্রশ্নই নেই। এখানে শুধুমাত্র নথিভুক্ত করা হবে ভারতে কতজন এখন বসবাস করছেন। এদিকে এনআরসি নিয়ে বিতর্ক শুরু হওয়ার পর প্রথমে পশ্চিমবঙ্গ এবং তারপর কেরল সরকার এনপিআর প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, এভাবে বন্ধ করা সম্ভব নয়। কারণ ওই রাজ্যগুলি নিজেরাই তো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আর দুই রা঩জ্যেই প্রশিক্ষণের কাজ পুরোদমে চলছে। যদিও আজ এনপিআরের সঙ্গে এনআরসির কোনও সম্পর্ক নেই বলে দাবি করলেও কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা করা হয়নি যে এনআরসি আর হবেই না। এই প্রশ্নটি মন্ত্রীরা এড়িয়ে গিয়েছেন। তবে এনআরসি নিয়ে দেশজুড়ে প্রবল বিক্ষোভ অশান্তির জেরে মোদি সরকার যে যথেষ্ট ব্যাকফুটে, তার প্রমাণ আজ এনপিআর নিয়ে ঘোষণায় রীতিমতো দেশবাসীর কাছে অনুনয় করে মন্ত্রীরা বলেছেন, আমরা দেশবাসীকে বিশ্বাস করি। দেশবাসী নিজেরা যে তথ্যই দেবে, আমরা তাই বিশ্বাস করে নেব এনপিআর প্রক্রিয়ায়। সবটাই সেল্ফ ডিক্লারেশন এবং কোনও ডকুমেন্ট ছাড়াই।
২০২০ সালের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রথমে বাড়ির সংখ্যা নথিভুক্ত করা হবে এবং সেইসব বাড়ির বাসিন্দাদের তথ্যাবলি তালিকাভুক্ত হবে। একেই বলা হচ্ছে এনপিআর। এরপর ২০২১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হবে প্রকৃত আদমসুমারির কাজ। শেষবার জনগণনা হয়েছিল ২০১১ সালে। পরবর্তী জনগণনা প্রকাশিত হবে ২০২১ সালে। তবে এনপিআর অসমে কার্যকর করা হবে না। সাম্প্রতিক এনআরসি বিক্ষোভে যে সরকার যথেষ্ট চাপে, তার প্রমাণ মিলল এদিন তথ্য সম্প্রচারমন্ত্রীর কথাতেই। প্রকাশ জাভরেকর মঙ্গলবার এনপিআরের সপক্ষে সওয়াল করে বললেন, এই প্রক্রিয়া ২০১০ সালে মনমোহন সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার শুরু করেছিল। আমরা হুবহু তাদেরই অনুসরণ করছি। সত্যিই এই প্রকল্পটি খুব ভালো!  





Others News

দেবেন্দ্রের মামলা এনআইএ-র হাতে

 দেবেন্দ্রের মামলা এনআইএ-র হাতে


নিউজ ডেস্কঃ হিজবুল মুজাহিদিন জঙ্গিদের সঙ্গে গ্রেফতার জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের ডিএসপি দেবেন্দ্র সিংহের মামলা হাতে নিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে দেবেন্দ্র যে হিজবুল জঙ্গিদের নিরাপদে জম্মুতে নামিয়ে আনছিলেন তারা পাক-অধিকৃত কাশ্মীর ও পাকিস্তানে হওয়া দু’টি অভিযানের প্রতিশোধ নিতে দিল্লি, পঞ্জাব অথবা চণ্ডীগড়ে বড় মাপের বিস্ফোরণের ছক কষেছিল। সূত্রের খবর, ধৃত ডিএসপি-কে কাশ্মীরে জিজ্ঞাসাবাদের পরে দিল্লিতে নিয়ে এসে ফের এক দফা জেরা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ দিকে গত বছর লোকসভা ভোটের ঠিক আগে পুলওয়ামায় আধাসেনার কনভয়ে বিস্ফোরণের সময়ে সেখানে দেবেন্দ্রের উপস্থিতি নিয়ে আজ তরজায় জড়িয়ে পড়ে কংগ্রেস ও বিজেপি। 

শনিবার কুলগামের কাছে ধরা পড়েছিলেন দেবেন্দ্রে নামে ওই অফিসার ও জঙ্গিরা। অভিযোগ, ধৃত জঙ্গিদের নিরাপদে জম্মুতে নিয়ে আসার জন্য জঙ্গি পিছু ১২ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন ওই অফিসার। গত ক’দিন ধরে উপত্যকায় প্রবল তুষারপাতের কারণে সড়কে যাতায়াত কার্যত বন্ধ রয়েছে। সূত্রের খবর, সে কারণে আপাতত কাজিগুণ্ডের কাছে রাখা হয়েছে ওই পুলিশ অফিসার ও জঙ্গিদের। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিশেষ মর্যাদা লোপের পরে কাশ্মীরে নজরদারি বাড়ায় সমতলে হামলার ছক কষছিল ওই জঙ্গিরা। গোয়েন্দাদের একটি সূত্রের দাবি, হামলার পরিকল্পনায় দেবেন্দ্রের মোবাইল ফোনও ব্যবহার করে তারা। অন্য জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়াও অস্ত্র-গোলাবারুদের জোগান সম্পর্কিত আলোচনা হয় ওই ফোনের মাধ্যমে। জঙ্গিদের সঙ্গে দেবেন্দ্রের ঘনিষ্ঠতা কোন পর্যায়ে গিয়েছিল, বাহিনীর আর কোনও অফিসার অর্থের বিনিময়ে জঙ্গিদের হয়ে কাজ করেন কি না তাও খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্র জানিয়েছে, দেবেন্দ্রের নামে থাকা পুরনো অভিযোগের ফাইল খোলা হচ্ছে। ২০০১ সালে সংসদ হামলায় অন্যতম দোষী আফজল গুরু ওই কাণ্ডে দেবেন্দ্রের জড়িত থাকার অভিযোগ করেছিল। আফজলের অভিযোগ ছিল, দেবেন্দ্রের চাপে পড়েই তাকে সংসদ হামলাকারী এক জঙ্গির দিল্লিতে থাকা ও গাড়ির ব্যবস্থা করে দিতে হয়েছিল। আফজলের সেই পুরনো অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন ডিআইজি ইশরার খানের কথায়, ‘‘ওই ব্যক্তির নামে তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে। কিছু পুলিশ অফিসার টাকার লোভে এই ধরনের কাজ করে বাহিনীর বদনাম করে।’’ আজই কেন্দ্র জানিয়েছে, দেবেন্দ্র সিংহ কোনও রাষ্ট্রপতি পদক পাননি। তবে ২০১৭ সালে পুলওয়ামাতে জঙ্গি দমনে সাহসিকতার জন্য রাজ্যস্তরে মেডেল দিয়ে সম্মানিত করেছিল জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন।