খড়গপুর আই আইটি - এর পাশে গাঁজার ব্যবসা

25th December 2019 পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর
খড়গপুর আই আইটি - এর পাশে গাঁজার ব্যবসা


নিউজ ডেস্কঃ আইআইটি ক্যাম্পাস থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে থাকা রেলবস্তির ঝুপড়িতে সন্ধ্যা হলেই ভিড় জমে। ক্রেতাদের বেশিরভাগই নতুন প্রজন্মের। তার মধ্যে খড়্গপুর আইআইটির অনেক পড়ুয়াও রয়েছেন। দরজা ঠক-ঠক করে ধাক্কা দিয়ে ১০০ টাকা বাড়িয়ে দিলেই হাতে আসে পুরিয়া। বাইরে থেকে সেটিকে দেখতে হোমিওপ্যাথি ওষুধের মতো হলেও সেটি আসলে গাঁজা। এমনই অভিযোগ পেয়ে সোমবার রাতে পুরীগেট সংলগ্ন সুভাষনগর রেলবস্তিতে অভিযান চালাল সিআইডি ও খড়্গপুর টাউন পুলিশ। নেতৃত্বে ছিলেন সিআইডির নারকোটিক্স বিভাগের ওসি সন্দীপ গঙ্গোপাধ্যায় ও টাউন আইসি রাজা মুখোপাধ্যায়। 

 সিআইডি সূত্রে খবর, সেখানে তল্লাশি চালিয়ে খাটের তলা থেকে দু’টি বস্তা ও শৌচাগার থেকে বেশ কিছু পুরিয়া উদ্ধার হয়। গ্রেফতার হয় গাঁজা কারবারে যুক্ত ওই ঝুপড়ির বাসিন্দা সঞ্জয় দোলুইকে। সবমিলিয়ে প্রায় ২২ কেজি ৩২৫ গ্রাম গাঁজা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তার বাজারমূল্য প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা। সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে ‘নারকোটিক ড্রাগস অ্যাণ্ড সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্সেস’ বা এনডিপিএস আইনে মামলা রুজু করেছে খড়্গপুর টাউন থানা।

গঞ্জিকা কাহিনি

• আইন: গাঁজা পেলেই এনডিপিএস ধারায় মামলা। গাঁজার নেশাও আইনত দণ্ডনীয়।
• আমদানি: ওড়িশার জলেশ্বর, কটক এলাকা থেকে।
• কোন পথে আসছে: রেল ও সড়কপথ।
• বিক্রির মাধ্যম: বাড়ি, পান-চা দোকানে গোপনে বিক্রি। 
• দাম: ১০ গ্রাম গাঁজার পুরিয়ার দাম ১০০-১২০টাকা। 





Others News

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা থেকে প্রায় ৪ হাজার অভিযোগ গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা থেকে প্রায় ৪ হাজার অভিযোগ গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে


বাংলা খবরঃ শুধু পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা থেকেই প্রায় ৪ হাজার অভিযোগ গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের ‘গ্রিভান্স অ্যান্ড রিড্রেসাল সেল’-এ। মানুষের মন বুঝতে কয়েক মাস আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে নবান্নে ওই সেল খোলা হয়েছে। টোল ফ্রি ফোন নম্বরের সঙ্গে দেওয়া হয়েছে ই-মেল আইডি ও হোয়াটস্অ্যাপ নম্বর। তবে অভিযোগের নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের একাংশের ঢিলেমি রয়েছে বলে নালিশ অভিযোগকারীদের একাংশের।

জেলা প্রশাসনের এক সূত্রে খবর, ওই সেলে কোনও অভিযোগ পৌঁছনোর পরে জেলার কাছে ‘অ্যাকশন টেকন রিপোর্ট’ (এটিআর) তলব করা হয়। সেখানে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঠিক কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে সেটা জানাতে বলা হয়। ওই সূত্রে খবর, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত নবান্ন হয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরে ৩,৮১৬টি অভিযোগ এসেছে। তার মধ্যে ২,৩১৯টির ক্ষেত্রে জেলা থেকে ‘অ্যাকশন টেকন রিপোর্ট’ পাঠানো হয়েছে। বাকি অভিযোগগুলি এখনও পড়েই রয়েছে। জানা যাচ্ছে, ৩,৮১৬টি অভিযোগের মধ্যে ৩,৭৬৬টি অভিযোগই এসেছে নভেম্বরের মধ্যে। বেশিরভাগ অভিযোগই রাস্তা সংক্রান্ত। এছাড়া সেতু, সরকারি প্রকল্পের ঘর, পেনশন, ভাতা, স্কলারশিপ, কন্যাশ্রী, সবুজসাথী, জাতিগত শংসাপত্র, পুলিশি নিস্ক্রিয়তা প্রভৃতি নানা বিষয় নিয়ে অভিযোগও এসেছে।

মাস তিনেক আগে এই পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায় এক প্রশাসনিক বৈঠকে এসে মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে সরকারি কাজে দেরি হলে তিনি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেরি করবেন না। পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে যে তাঁর কাছে অভিযোগ বেশি যাচ্ছে তাও জানিয়েছিলেন তিনি। তারপরেও অভিযোগের নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ঢিলেমি কেন? জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিকের আশ্বাস, ‘‘কোথায় কত অভিযোগ পড়ে রয়েছে, কেন পড়ে রয়েছে, সে সব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’ তিনি জানাচ্ছেন, ইতিমধ্যেই পুরো পদ্ধতিকে অনলাইন করা হয়েছে। 

পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক রশ্মি কমল বলেন, ‘‘বেশ কিছু অভিযোগ এসেছে। রাস্তাঘাট, সরকারি প্রকল্পের ঘর নিয়েও কিছু অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগগুলির একে একে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। সমস্যাগুলিরও সুরাহা করা হচ্ছে।’’