১৯৭১-এর আগের প্রমাণসহ ‘পাত্রী চাই’য়ের বিজ্ঞাপন

24th December 2019 পশ্চিমবঙ্গ
১৯৭১-এর আগের প্রমাণসহ ‘পাত্রী চাই’য়ের বিজ্ঞাপন


নিউজ ডেস্কঃ  à¦¨à¦¾à¦—রিকত্ব আইনের জেরে বদলাচ্ছে সুপাত্রীর সংজ্ঞা। বিয়ের মরশুমে সুপাত্রী মানে তন্বী, সুর্দশনা না হলেও সুশ্রী, উজ্জ্বল ত্বক এবং গৃহকর্ম নিপুণা তো বটেই। কিন্তু, এনআরসি, নাগরিকত্ব আইন নিয়ে হইচইয়ের ‘সারসত্য’ বুঝে ফেলেছেন এক বিবাহ ইচ্ছুক শিক্ষক। তিনি পাত্রী চাইয়ের বিজ্ঞাপনে যোগ্যতামান হিসাবে কেবল উচ্চতা ছাড়া আর একটিই দাবি পেশ করেছেন। তা হল, পরিবারের ১৯৭১-এর আগে জন্ম বিষয়ক ভারতীয় শংসাপত্র আছে কিনা! বলাইবাহুল্য এমন বেনজির বিজ্ঞাপন ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। অনেকেই মুচকি হেসে বলছেন, সুন্দরী হোক বা না হোক, পাড়া জাগিয়ে বিয়ে করে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাবুদের চক্করে বউ হারাতে হলে মাস্টারমশাই মানবেন কেন!
একটি বাংলা দৈনিক সংবাদপত্রে রবিবার ‘পাত্রী চাই’ বিজ্ঞাপনে লেখা হয়েছে, ‘ঘোষ ২৯/à§« ফুট ৯ ইঞ্চি হাইস্কুল শিক্ষক এইচএস পাশ, পাঁচ ফুট এক ইঞ্চি ঊর্ধ্বে ভারতীয় ১৯৭১-এর আগের প্রমাণ সহ ঘোষ পাত্রী চাই।’ নীচে ফোন নম্বর। যোগাযোগ সোম থেকে শুক্র। এই বিজ্ঞাপন নিয়েই সোশ্যাল মিডিয়ার নেটিজেনরা নানান পোস্ট দিয়েছেন। অনেকে রসিকতার সুরে পোস্টে কমেন্ট বক্সে লিখেছেন, শেষ পর্যন্ত এটাও দেখতে হল! আবার অনেক অবিবাহিত মেয়েরা লিখেছেন, আমার তো ১৯৭১-এর আগের প্রমাণপত্র নেই। তাহলে কি বিয়ে হবে না? চিরকাল কুমারী থাকতে হবে!
বারাকপুরের একটি বিবাহ বন্ধন সংস্থা কর্তা দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এনআরসি, নাগরিকত্ব আইনের এটা প্রভাব। অনেকেই মেয়ের বা ছেলের বিয়ের জন্য আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এখন ছেলে পক্ষ পশ্চিমবঙ্গে স্থায়ী বাসিন্দা এমন পাত্রী চাইছেন। আবার মেয়ে পক্ষও পাত্র চাইছেন পশ্চিমবঙ্গের আদি বাসিন্দা। আমরা পড়েছি মুশকিলে! চাকরিজীবী সুপাত্র কাউকে সহজে বলা যাচ্ছে না, ভারতীয় নাগরিকত্বের কোনও প্রমাণ আছে কি না। আবার সুপাত্রীদেরও বলা যাচ্ছে না।
নাগরিকত্ব আইন পাশের পর ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল সারা রাজ্য জুড়ে। তাতে আতঙ্কিত অনেকেই। ওপার বাংলা থেকে যাঁরা এসেছেন, তাঁদের ভিটেমাটি ছাড়া হতে পারে বলে প্রচার চলছে। তার জেরেই জীবনসঙ্গী হিসাবে পাত্র-পাত্রীরা এমন কাউকে চাইছেন, যাতে বিয়ের পরবর্তী জীবনে কোনও জটিলতায় না পড়তে হয়।





Others News

‘কাশ্মীরের ধৃত DSP সিং না হয়ে খান হলে কী হত?’, বিজেপিকে জিজ্ঞাসা অধীরের

‘কাশ্মীরের ধৃত DSP সিং না হয়ে খান হলে কী হত?’, বিজেপিকে জিজ্ঞাসা অধীরের


নিউজ ডেস্কঃ জঙ্গিদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছে কাশ্মীরের ডি এস পি দেবেন্দ্র সিং। তাকে জেরা করে জানা গিয়েছে, এই কাজের জন্য ১২ লক্ষ টাকা নিয়েছিল সে। তদন্তে আরও জানা যায়, ২০০১ সালের সংসদ হামলার মূলচক্রী হিসেবে ফাঁসিতে ঝোলা আফজল গুরুকে দিল্লিতে এক জঙ্গিকে লুকিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছিল দেবেন্দ্র। সেই জঙ্গিই পরে সংসদে হামলা চালায়। শুধু এই ঘটনাই নয়, দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই জঙ্গিদের সাহায্য করেছে সে। এই বিষয়গুলি প্রকাশ্যে আসার পরই কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করেছেন বহরমপুরের কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরি। সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, ধৃত ডি এস পি দেবেন্দ্র সিং যদি শিখ না হয়ে মুসলিম হত তা হলে কী হত? এত বড় মাপের একজন পুলিশ আধিকারিক গ্রেপ্তার হওয়ার পরে পুলওয়ামার জঙ্গি হামলার ঘটনার ফের তদন্ত করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার এই বিষয়ে একাধিক টুইট করে কোনওভাবেই দেশের শত্রুদের যাতে ছাড়া না হয় তার পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। এক্ষেত্রে যেন তাদের ধর্ম ও সামাজিক পরিচয় কোনও প্রভাব ফেলতে না পারে সেকথাও উল্লেখ করেন। টুইট করে প্রশ্ন করেন, ‘দেবেন্দ্র সিংয়ের বদলে ওই ডিএসপি’র নাম যদি দেবেন্দ্র খান হত। তাহলে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ -র ট্রোল রেজিমেন্টের আক্রমণ আরও তীব্র ও কৌতূকপূর্ণ হত। আমাদের দেশের শত্রুদের শরীরের রং, বর্ণ এবং ধর্ম নির্বিশেষে নিন্দিত হওয়া উচিত।’