এনআরসি-সিএএ প্রয়োগে বাধা দিতে পারেন না কেউ, দেশে হবেইঃ অমিত শাহ

18th December 2019 ভারত
এনআরসি-সিএএ প্রয়োগে বাধা দিতে পারেন না কেউ, দেশে হবেইঃ অমিত শাহ


বাংলা নিউজঃ দেশের নাগরিকদের তালিকা বানাতে দ্রুত এনআরসি-র কাজ শুরু করার পক্ষপাতী মোদী সরকার। শরণার্থীরা যাতে এনআরসি-তে বাদ না পড়েন, তার জন্য সদ্য সমাপ্ত অধিবেশনেই নাগরিকত্ব আইনে সংশোধনী আনে সরকার। কিন্তু এনআরসি ও সিএএ-র মাধ্যমে বিজেপি ধর্মীয় মেরুকরণ ও বিভাজনের রাজনীতি করছে বলে অভিযোগে সরব হয় বিরোধী দলগুলি। মমতা জানান, তিনি কোনও ভাবেই এনআরসি এবং সিএএ রাজ্যে প্রয়োগ হতে দেবেন না। মমতার হুঙ্কার, এনআরসি ও সিএএ হলে তাঁর মৃতদেহের উপর দিয়ে করতে হবে কেন্দ্রকে। তৃণমূল নেত্রীর সেই বক্তব্য প্রসঙ্গে একটি সর্বভারতীয় বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমে অমিত শাহ জানান, ‘‘বিষয়টি এত গুরুত্ব দিয়ে দেখার দরকার নেই। সিএএ ও এনআরসি কেন্দ্রীয় তালিকাভুক্ত বিষয়। প্রতিটি রাজ্য তা বাস্তবায়নে বাধ্য। দিনক্ষণ এখনও ঠিক না হলেও কেন্দ্র ওই আইন গোটা দেশে প্রয়োগ করতে বদ্ধপরিকর।’’ মমতা-সহ বিরোধীরা এনআরসি-সিএএ বাতিল করার দাবি তুলেছেন। অমিত কিন্তু বলেন, ‘‘আইন প্রত্যাহারের প্রশ্নই নেই।’’

এনআরসি থেকে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ), রাজ্যে প্রয়োগ হতে দেবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তৃণমূল নেত্রীর সেই আপত্তিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গের আপত্তিকে সে ভাবে গুরুত্ব দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। কারণ এগুলি সবই কেন্দ্রীয় আইন। যা প্রয়োগে বাধ্য রাজ্য সরকার। গত কাল রাজ্যে ন্যাশনাল পুপলেশন রেজিস্টার (এনপিআর) তৈরির কাজও বন্ধ করার যে নির্দেশ পশ্চিমবঙ্গ সরকার দিয়েছে, তা অবৈধ বলেই মনে করছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। কেন্দ্রের বক্তব্য, এ ভাবে কেন্দ্রীয় কাজে হস্তক্ষেপ করার কোনও অধিকার নেই রাজ্যের। 





Others News

দেবেন্দ্রের মামলা এনআইএ-র হাতে

 দেবেন্দ্রের মামলা এনআইএ-র হাতে


নিউজ ডেস্কঃ হিজবুল মুজাহিদিন জঙ্গিদের সঙ্গে গ্রেফতার জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের ডিএসপি দেবেন্দ্র সিংহের মামলা হাতে নিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে দেবেন্দ্র যে হিজবুল জঙ্গিদের নিরাপদে জম্মুতে নামিয়ে আনছিলেন তারা পাক-অধিকৃত কাশ্মীর ও পাকিস্তানে হওয়া দু’টি অভিযানের প্রতিশোধ নিতে দিল্লি, পঞ্জাব অথবা চণ্ডীগড়ে বড় মাপের বিস্ফোরণের ছক কষেছিল। সূত্রের খবর, ধৃত ডিএসপি-কে কাশ্মীরে জিজ্ঞাসাবাদের পরে দিল্লিতে নিয়ে এসে ফের এক দফা জেরা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ দিকে গত বছর লোকসভা ভোটের ঠিক আগে পুলওয়ামায় আধাসেনার কনভয়ে বিস্ফোরণের সময়ে সেখানে দেবেন্দ্রের উপস্থিতি নিয়ে আজ তরজায় জড়িয়ে পড়ে কংগ্রেস ও বিজেপি। 

শনিবার কুলগামের কাছে ধরা পড়েছিলেন দেবেন্দ্রে নামে ওই অফিসার ও জঙ্গিরা। অভিযোগ, ধৃত জঙ্গিদের নিরাপদে জম্মুতে নিয়ে আসার জন্য জঙ্গি পিছু ১২ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন ওই অফিসার। গত ক’দিন ধরে উপত্যকায় প্রবল তুষারপাতের কারণে সড়কে যাতায়াত কার্যত বন্ধ রয়েছে। সূত্রের খবর, সে কারণে আপাতত কাজিগুণ্ডের কাছে রাখা হয়েছে ওই পুলিশ অফিসার ও জঙ্গিদের। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিশেষ মর্যাদা লোপের পরে কাশ্মীরে নজরদারি বাড়ায় সমতলে হামলার ছক কষছিল ওই জঙ্গিরা। গোয়েন্দাদের একটি সূত্রের দাবি, হামলার পরিকল্পনায় দেবেন্দ্রের মোবাইল ফোনও ব্যবহার করে তারা। অন্য জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়াও অস্ত্র-গোলাবারুদের জোগান সম্পর্কিত আলোচনা হয় ওই ফোনের মাধ্যমে। জঙ্গিদের সঙ্গে দেবেন্দ্রের ঘনিষ্ঠতা কোন পর্যায়ে গিয়েছিল, বাহিনীর আর কোনও অফিসার অর্থের বিনিময়ে জঙ্গিদের হয়ে কাজ করেন কি না তাও খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্র জানিয়েছে, দেবেন্দ্রের নামে থাকা পুরনো অভিযোগের ফাইল খোলা হচ্ছে। ২০০১ সালে সংসদ হামলায় অন্যতম দোষী আফজল গুরু ওই কাণ্ডে দেবেন্দ্রের জড়িত থাকার অভিযোগ করেছিল। আফজলের অভিযোগ ছিল, দেবেন্দ্রের চাপে পড়েই তাকে সংসদ হামলাকারী এক জঙ্গির দিল্লিতে থাকা ও গাড়ির ব্যবস্থা করে দিতে হয়েছিল। আফজলের সেই পুরনো অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন ডিআইজি ইশরার খানের কথায়, ‘‘ওই ব্যক্তির নামে তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে। কিছু পুলিশ অফিসার টাকার লোভে এই ধরনের কাজ করে বাহিনীর বদনাম করে।’’ আজই কেন্দ্র জানিয়েছে, দেবেন্দ্র সিংহ কোনও রাষ্ট্রপতি পদক পাননি। তবে ২০১৭ সালে পুলওয়ামাতে জঙ্গি দমনে সাহসিকতার জন্য রাজ্যস্তরে মেডেল দিয়ে সম্মানিত করেছিল জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন।