একটি শিক্ষামূলক গল্প

18th December 2019 শিক্ষা
একটি শিক্ষামূলক গল্প


তিন বোকার গল্প

এক গ্রামে ছিল তিন বোকা। তারা বোকা বলে বোকা, একেবারে বোকার হদ্দ। তাদের বাড়ির লোকজন একদিন তিনজঙ্কেই একসাথে গ্রাম থেকে বের করে দিল। বেচরা বোকা তিনজন গ্রামের বাইরে এসে একটা বড় ছাতিম তগাছের ছায়ায় এসে বসল। তারপর তিনজন মিলে ঠিক করল তারা দূর দেশে চলে যাবে।

সেইমত তিন বোকা নদী-নালা-মাঠ পেরিয়ে নতুন এক গ্রামে গিয়ে হাজির হল। নতুন গ্রামে এসে তারা একটি বেশ বড় সড় বাড়ি দেখতে পেল। তিন বোকা খোঁজ নিয়ে জানতে পারল সেটা এক মাষ্টারমশাইয়ের বাড়ি। মাষ্টারমশাই ঠিক তখনই স্কুল যাবার জন্য তৈরি হয়ে বেরোতে যাচ্ছিলেন। এমনসময় তিন বোকা তাঁর পায়ে পড়ে পা চেপে ধরল। মাষ্টারমশাই বললেন, ওরে ছাড় ছাড়, স্কুলের দেরি হয়ে যাচ্ছে। বোকা তিনজন তবু পা ছাড়ে না। বলল, মাষ্টারমশাই আমরা ভিন-গাঁ থেকে এসেছি। আমাদের আপনি একটা ব্যবস্থা করে দিন।

মাষ্টারমশাই বললেন, আচ্ছা আচ্ছা। সব ব্যবস্থা ফিরে এসে হবে। বাড়িতে মা রয়েছে। তোরা তার কাছ থেকে খাবার চেয়ে খেয়ে নিবি। তারপর বাড়িএ কিছু কাজকর্ম সেরে রাখবি। আমি ফিরে এসে তোদের ব্যবস্থা করব। এই বলে তিনি স্কুলের প্পথে হন্ হন্ করে হাঁটতে লাগলেন।

বোকা তিনজন বুড়িমায়ের কাছে পান্তা ভাত মুড়ি কাঁচা লঙ্কা মেখে পেট ভরে খেয়ে নিল। তারপর বলল, বলুন বুড়িমা কি কাজ করতে হবে? বূড়িমা বলল, যা তোরা নদীতে স্নান সেরে ঘানি থেকে তিন হাঁড়ি সরষের তেল নিয়ে আয়।

বোকারা সেইমত নদীতে স্নান সেরে তেল আনতে চলল। মাটির ছোট ছোট হাঁড়িতে তেল নিয়ে তারা বাড়ির পথে ফিরছে এমন সময় পথে দেখল একটা প্রকান্ড বট গাছ। সেই বট গাছের ছায়ায় বসে একটু জিরিয়ে নিতে তারা তেলের হাঁড়িগুলো মাটিতে রাখল। তারপর জিরিয়ে টিরিয়ে যেই হাঁড়িগুলোর দিকে তাকিয়েছে অমনি দেখে তিনটি হাঁড়িতেই চোর ঢুকে বসে আছে। আসলে হাঁড়ির মধ্যে ছিল তেল আর ঐ তেলেই তারা নিজেদের ছায়া দেখতে পেয়েছে। নিজেদের ছায়াগুলোকে চোর ভেবে তারা দুম দাম করে লাঠি দিয়ে পিটাতে লাগল। লাঠির ঘায়ে মাটির হাঁড়িতো ভাঙ্গলই সাথে সাথে তেলটাও গড়িয়ে পড়ল। অবশেষে তিন বোকা খালি হাতে বাড়ি ফিরে এল।

মাষ্টারমশাই সন্ধ্যেবেলায় বাড়িতে ফিরে সব কথা শুনে বলল, কাল তোরা তিনজন বনে গিয়ে তিন বোঝা শুকনো কাঠ নিয়ে আসবি, এটা পারবি তো ? বোকারা অনেকখানি ঘাড় কাত করে খেয়ে দেয়ে শুয়ে পড়ল।

পরদিন মাষ্টারমশাই স্কুলে চলে গেলে বোকা তিনজনও বনের পথ ধরল। তারপর তিনজন তিনটি বেশ বড়সড় কাঠের বোঝা মাথায় চাপিয়ে বুড়িমার কাছে ফিরে এল। বুড়িমা তখন খোলা পাতে মুড়ি ভাজছিল। গরমে তার মেজাজ ছিল সপ্তমে। আর ঠিক তখনই বোকা তিনজন চিৎকার জুড়ে দিল, কাঠ এনেছি, রাখবো কোথায় ? তিন বোকা একই কাথা বলায় বুড়িমা রেগে-মেগে বলল, কাঠ রাখার জায়গা পাচ্ছিস না ? আমার মাথায় রাখ। এই কথা শেষ হতেই বোকা তিনজন তিনবোঝা কাঠ বুড়িমার মাথায় ফেলে দিল আর তাতেই বুড়ি মারা গেল।

মাষ্টারমশাই ঘরে ফিরে দেখল অনর্থ হয়ে গেছে। কেন যে তিনি বোকাদের আশ্রয় দিলেন ? তারপর কান্না-কাটি থামিয়ে বোকাদের নির্দেশ দিলেন, যা তোরা মা-কে নিয়ে গিয়ে নদীতে সৎকার করে ফেল। এতে যদি তোদের কিছুটা পাপ কমে।

বোকারা তখন একটা তালপাতার চাটায়ের মধ্যে বুড়িমার দেহটা গুটিয়ে নদীতে নিয়ে চলল। যেতে যেতে কোনসময় বুড়ির দেহটা চাটাই থেকে বাইরে পড়ে গেছে তারা খেয়ালই করে নি। নদীতে পৌঁছে দেখল বুড়িমা নেই। কোথায় গেল ? বোকা তিনজন তখন ভাবল, বুড়িমা নিশ্চয়ই জ্যান্ত হয়ে কোথাও লুকিয়ে পড়ছে। তাই তারা বুড়িকে ধরে নিয়ে আসতে আবার গ্রামের পথে পা বাড়াল।

যেতে যেতে তারা অন্য একটি গ্রামে গিয়ে পৌঁছল। সেই গ্রামে একটি বুড়ি ঝাট দিয়ে উঠোন পরিষ্কার করছিল। বোকা তিনজন তাকে দেখতে পেয়ে হৈ হৈ করে এল। তারপর তাকে জোর করে ধরে নিয়ে গিয়ে সৎকার করে দিল।

সন্ধ্যায় বোকারা মাষ্টারমশাইয়ের কাছে এসে বলল, আজ আমাদের খুব পরিশ্রম গেছে। বুড়িমা তালপাতার চাটাই থেকে বেরিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল। আমরা তাকে জোর করে ধরে নিয়ে এসে সৎকার করে দিয়েছি।

মাষ্টারমশাই বোকাদের কথা শুনে তো একেবারে হাঁ হয়ে গেলেন। অনেক হয়েছে। এরা শুধু বোকা নয়, একেবারে বোকার হদ্দ। এদের কিছুইতেই ঘরে রাখা যাবে না। রাখলেই পদে পদে বিপদ। এই ভেবে তিনি তাদের তাড়িয়ে দিলেন।

তিন বোকা আবার ভিন-গাঁয়ের পথে হাঁটতে লাগল।





Others News

সাধারণ জ্ঞান

সাধারণ জ্ঞান


১। *অপারেশন ব্ল্যাকবোর্ড* - ১৯৮৭-৮৮ - প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে।

২। *জাতীয় সাক্ষরতা উন্নয়ন* - ১৯৮৮ - সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি করা।

৩। *ন্যাশনাল লিটারেসি মিশন প্রোগ্রাম* - ১৯৮৮ - ১৫-৩৫ বয়স্ক ৮০ কোটি মানুষকে স্বাক্ষর করা।

৪। *জওহর রোজগার যোজনা* - ১৯৮৯ - গ্রামীণ বেকারদের কর্ম প্রদান।

৫। *নেহেরু রোজগার যোজনা* - ১৯৮৯ - শহরের বেকার সমস্যার সমাধান।

৬। *শহরের কর্ম মজুরি প্রকল্প* - ১৯৯০ - যে শহরে জনসংখ্যা ১ লক্ষের কম সেখানকার গরিবদের কাজের বিনিময়ে মজুরী ও অন্যান্য নুন্যতম ব্যবস্থার সংস্থান।

৭। *কর্ম নিশ্চয়তা প্রকল্প* - ১৯৯৩ - গ্রামে বছরে কমপক্ষে ১০০ দিনের কাজের নিশ্চয়তা প্রদান।

৮। *মহিলা সমৃদ্ধি যোজনা* - ১৯৯৩ - পোস্ট অফিসে টাকা জমা করতে মহিলাদের উৎসাহিত করা।

৯। *শিশুশ্রমিক দূরীকরণ প্রকল্প* - ১৯৯৪ - শিশুদেরকে ক্ষতিকারক শিল্প থেকে মুক্ত করে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসা।

১০। *জাতীয় সামাজিক সাহায্য প্রকল্প* - ১৯৯৫ - দারিদ্রসীমার নীচে বসবাসকারীদের সাহায্য করা।

১১। *মিড ডে মিল স্কীম* - ১৯৯৫ - প্রাথমিক স্তরে শিক্ষায় পড়ুয়াদের উৎসাহ প্রদান ও মিড ডে মিল প্রদান।

১২। *জাতীয় বস্তি উন্নয়ন কর্মসূচী* - ১৯৯৬ - শহরের বস্তির উন্নয়ন।

১৩। *গণবন্টন ব্যবস্থা* - ১৯৯৭ - রেশনের মাধ্যমে চাল, গম, চিনি, কেরোসিন জনগণের কাছে সুষ্ঠভাবে বন্টন করা।

১৪। *অন্নপূর্ণা যোজনা* - ১৯৯৯ - পেনশনভোগী নন এমন বৃদ্ধ বৃদ্ধাদের মাসে ১০ কেজি করে খাদ্যশস্য বিতরণ।

১৫। *স্বর্ণজয়ন্তী গ্রাম স্বরোজগার যোজনা* - ১৯৯৯ - গ্রামীন দারিদ্র ও বেকারত্বের দূরীকরণ এবং স্বনিযুক্তির প্রচলন।

১৬ । *জওহর গ্রাম সমৃদ্ধি যোজনা* - ১৯৯৯ - গ্রামে চাহিদাভিত্তিক পরিকাঠামো সৃষ্টি।

১৭। *প্রধানমন্ত্রী গ্রামোদয় যোজনা* - ২০০০ - গ্রামে ন্যূনতম পরিষেবা প্রদান।

১৮। *অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা* - ২০০০ - গরিবদের খাদ্যসুরক্ষা প্রদান।

১৯। *প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা* - ২০০০ - সমস্ত গ্রামের সংযুক্তিকরণ পাকা রাস্তা দিয়ে করা।

২০। *সর্বশিক্ষা অভিযান* - ২০০০ - ৬ থেকে ১৪ বছর বয়স্ক শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষায় ৫ বছরের পূর্তিকরণ।