বাংলা নিউজঃ তাঁর সরকার ফেলে দিয়ে যদি পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির চেষ্টাও হয়, তা হলেও তিনি পিছু হঠবেন না— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন খুব স্পষ্ট করে এই বার্তাও দিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘কোনও কোনও বিজেপি নেতা বলতে শুরু করেছেন, বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন কেন জারি হবে না? আমাদের সরকার ফেলে দেবেন? ফেলে দিন। কিন্তু ইজ্জতের জন্য যখন লড়তে নেমেছি, তখন মাথা নত করব না।’’ ‘‘আমরা বাংলায় আছি। এখানে এনআরসি করতে হলে, আমার মৃতদেহের উপর দিয়ে করতে হবে, এখানে সিএবি করতে হলে আমার মৃতদেহের উপর দিয়ে করতে হবে,’’— এই ভাষাতেই এ দিন নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে সুর চড়ান মমতা।
এদিনও বিক্ষোভকারীদের হিংসাত্মক আন্দোলনের পথ থেকে সরে এসে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনের আবেদন করে মমতা বলেছেন, ‘ট্রেন, পোস্ট–অফিসে কেউ আগুন দেবেন না। পথ অবরোধ করবেন না। যে সব মানুষরা আপনাদের সমর্থন করছে তাদের বিরোধিতা করছেন কেন?’ এই হিংসার ফলে বিজেপির সুবিধা হবে বলে মনে করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ‘কয়েকটা ট্রেনে আগুন লেগেছে বলে বিজেপি সব ট্রেন বন্ধ করে দিয়েছে।’ এজন্য রাজ্যবাসীরা মুশকিলে পড়েছেন, বললেন তিনি। নাম না করে প্রদেশ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা করে মমতা বলেছেন, তাঁরা রাষ্ট্রপতি শাসন চাইছেন রাজ্যে।
সোমবার দুপুরে সিএএ–র প্রতিবাদে রেড রোডে সংবিধানপ্রণেতা বি আর আম্বেডকরের মূর্তির পাদদেশ থেকে শুরু হয়ে মিছিল শেষ হয় জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে। তৃণমূল কর্মী, সমর্থকরা ছাড়াও মমতার সঙ্গে পা মেলান কয়েক লক্ষ সাধারণ মানুষ, সমাজকর্মী এবং সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্টজনেরা। সিএএ–র প্রতিবাদে মঙ্গলবার যাদবপুর এইট–বি বাস স্ট্যান্ড থেকে শুরু হয়ে দক্ষিণ কলকাতা এবং বুধবার হাওড়ায় মিছিল হবে বলে এদিন ঘোষণা করে দেন মমতা।