সোনার দোকানে দুষ্কৃতী হানা

10th December 2019 পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর
সোনার দোকানে দুষ্কৃতী হানা


বাংলা নিউজঃ সকাল ৮টা। সবেমাত্র শাটার খুলে সোনার দোকানে ঢুকেছেন সেখানকার কর্মী বিবেক পাত্র। অভ্যাস মতো ঝাঁট দিচ্ছিলেন দোকানে। হঠাৎই সেখানে ঢুকে পড়ল মাফলারে মুখ ঢাকা এক ব্যক্তি।

দোকানে ঢুকেই শাটার নামিয়ে দেয় ওই দুষ্কৃতী। তারপরই সে চড়াও হয় বিবেকের উপর। প্রথমে মারধর। পরে স্প্রে করে বিবেককে বেহুঁশ করার চেষ্টা করে ওই দুষ্কৃতী। কিন্তু কোনওরকমে নিজেকে বাঁচিয়ে নেন দাসপুর বাজারের সোনার দোকানের ওই কর্মী। দোকানের ভিতর থেকেই চোর চোর বলে চিৎকার শুরু করেন তিনি। সোমবার, সপ্তাহের প্রথম দিন। সকাল থেকেই মানুষের আনাগোনা শুরু হয়েছিল বাজারে। এসে গিয়েছিলেন ব্যবসায়ীদের অনেকেই। চিৎকার শুনে জড়ো হন সকলে। পাকড়াও করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় ওই দুষ্কৃতীকে। পুলিশ সূত্রের খবর, দুষ্কৃতীর নাম রণজিৎ আদক। বাড়ি ঘাটাল থানার শীতলপুরে।

দুষ্কৃতীর সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে আহত হয়েছেন বিবেক। তাঁকে ব্যবসায়ীরাই নিয়ে‌ যান গ্রামীণ হাসপাতালে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবশ্য তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে বিবেক বলেন, ‘‘দোকানে ঢুকেই শাটার নামিয়ে দেয় দুষ্কৃতী। কিছু বুঝে ওঠার আগে মুখে স্প্রে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়। কিছুটা সামলে নিয়ে আমি তাকে ঝাপটে ধরে ফেলি। মারধর করে পালানোর চেষ্টা চালায়। আমিও চিৎকার করতে থাকি।” ওই সোনার দোকানের মালিক পরেশ ভৌমিক বলেন, “থানায় লিখিত ভাবে সব জানানো হয়েছে। ক্যামেরার ফুটেজ পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।” জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানান, “দুষ্কৃতীকে জেরা করা হচ্ছে। সে কোনও চক্রের সঙ্গে যুক্ত কি না, তা দেখা হচ্ছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হবে।”

সকাল আটটা নাগাদ ভরা বাজারে এমন দুষ্কৃতী হানার ঘটনার চাউর হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার ব্যবসায়ী সহ সাধারণ মানুষ। ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, দুষ্কৃতীর ব্যাগ থেকে তালা ভাঙার বেশকিছু যন্ত্র পাওয়া গিয়েছে।





Others News

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা থেকে প্রায় ৪ হাজার অভিযোগ গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা থেকে প্রায় ৪ হাজার অভিযোগ গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে


বাংলা খবরঃ শুধু পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা থেকেই প্রায় ৪ হাজার অভিযোগ গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের ‘গ্রিভান্স অ্যান্ড রিড্রেসাল সেল’-এ। মানুষের মন বুঝতে কয়েক মাস আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে নবান্নে ওই সেল খোলা হয়েছে। টোল ফ্রি ফোন নম্বরের সঙ্গে দেওয়া হয়েছে ই-মেল আইডি ও হোয়াটস্অ্যাপ নম্বর। তবে অভিযোগের নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের একাংশের ঢিলেমি রয়েছে বলে নালিশ অভিযোগকারীদের একাংশের।

জেলা প্রশাসনের এক সূত্রে খবর, ওই সেলে কোনও অভিযোগ পৌঁছনোর পরে জেলার কাছে ‘অ্যাকশন টেকন রিপোর্ট’ (এটিআর) তলব করা হয়। সেখানে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঠিক কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে সেটা জানাতে বলা হয়। ওই সূত্রে খবর, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত নবান্ন হয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরে à§©,৮১৬টি অভিযোগ এসেছে। তার মধ্যে ২,৩১৯টির ক্ষেত্রে জেলা থেকে ‘অ্যাকশন টেকন রিপোর্ট’ পাঠানো হয়েছে। বাকি অভিযোগগুলি এখনও পড়েই রয়েছে। জানা যাচ্ছে, à§©,৮১৬টি অভিযোগের মধ্যে à§©,৭৬৬টি অভিযোগই এসেছে নভেম্বরের মধ্যে। বেশিরভাগ অভিযোগই রাস্তা সংক্রান্ত। এছাড়া সেতু, সরকারি প্রকল্পের ঘর, পেনশন, ভাতা, স্কলারশিপ, কন্যাশ্রী, সবুজসাথী, জাতিগত শংসাপত্র, পুলিশি নিস্ক্রিয়তা প্রভৃতি নানা বিষয় নিয়ে অভিযোগও এসেছে।

মাস তিনেক আগে এই পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায় এক প্রশাসনিক বৈঠকে এসে মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে সরকারি কাজে দেরি হলে তিনি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেরি করবেন না। পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে যে তাঁর কাছে অভিযোগ বেশি যাচ্ছে তাও জানিয়েছিলেন তিনি। তারপরেও অভিযোগের নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ঢিলেমি কেন? জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিকের আশ্বাস, ‘‘কোথায় কত অভিযোগ পড়ে রয়েছে, কেন পড়ে রয়েছে, সে সব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’ তিনি জানাচ্ছেন, ইতিমধ্যেই পুরো পদ্ধতিকে অনলাইন করা হয়েছে। 

পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক রশ্মি কমল বলেন, ‘‘বেশ কিছু অভিযোগ এসেছে। রাস্তাঘাট, সরকারি প্রকল্পের ঘর নিয়েও কিছু অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগগুলির একে একে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। সমস্যাগুলিরও সুরাহা করা হচ্ছে।’’