আমেরিকার কোন অস্ত্রে নিকেশ ইরানের কমান্ডার সোলেমানি?

4th January 2020 বিশ্ব
আমেরিকার কোন অস্ত্রে নিকেশ ইরানের কমান্ডার সোলেমানি?


বাংলা খবরঃ শুক্রবার মার্কিন হানায় নিহত হয়েছেন ইরানের ‘কাডস ফোর্স’-এর কমান্ডার জেনারেল কাশেম সোলেমানি। নিরাপত্তার প্রায় অভেদ্য ঘেরাটোপে থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এবং কোন অস্ত্রে তাঁকে নিকেশ করল আমেরিকা? উঠছে এই প্রশ্ন। এর উত্তরে উঠে এসেছে এক ঘাতক মার্কিন অস্ত্রের নাম। জানা গিয়েছে, সোলেমানিকে নিকেশ করেছে অত্যাধুনিক মার্কিন ড্রোন ‘MQ-9 Reaper’।

একবার জ্বালানি ভরে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হামলা চলতে সক্ষম এই চালকবিহীন বিমানটি। ‘MQ-9 Reaper’ ড্রোনটির সর্বোচ্চ গতি হচ্ছে ৪৮২ কিলোমিটার প্রতিঘণ্টা। এতে রয়েছে অত্যাধুনিক ইনফ্রারেড ক্যামেরা, যা রাতেও যুদ্ধক্ষেত্রের ছবি পরিষ্কার পাঠিয়ে দেয় সুদূর ঘাঁটিতে বসে থাক চালকের মনিটরে। মার্কিন বাযুসেনার এই ড্রোনটির প্রধান অস্ত্র ‘GBU-12 Paveway II’ লেসার গাইডেড বম্ব ও ‘AGM-114 Hellfire II’ ও ‘AIM-9 Sidewinder’ মিসাইল। পেন্টাগনের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, সোলেমানির কনভয়ে ‘Hellfire II’ মিসাইল দিয়ে হামলা চালিয়েছিল মার্কিন ড্রোন। 

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, গোটা অপারেশনের শেষ পর্যায় ছিল ড্রোন হামলা। এর আগে সোলেমানির গতিবিধির উপর কড়া নজর ছিল মার্কিন ও ইজরায়েলি গোয়েন্দাদের। এমনকী ইরানি কমান্ডারের ফোনালাপও টেপ করছিলেন তাঁরা। প্রয়োজনে নজরদারি ড্রোন উড়িয়ে সোলেমানির পিছু ধাওয়া করা হত। উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বর মাসে  হত্যার চেষ্টা করে বিফল হয় ইজরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ।

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনার মাত্র তিনটি অপারেশনাল ড্রোন ঘাঁটি রয়েছে। সেগুলি হল-আলি আল-সালেম (কুয়েত), উদেইদ এয়ারবেস (কাতার), আল দাফর (সংযুক্ত আরব অমিরশাহী)। বাগদাদ বিমানবন্দরে নিকটতম মার্কিন ড্রোন ঘাঁটি কুয়েতে। তবে সেখান থেকে বাগদাদের দূরত্ব প্রায় ৫৭০ কিলোমিটার। ফলে আগে থেকেই খবর না থাকলে হামলা চালানো সম্ভব নয়। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে মনে করা হচ্ছে, সোলেমানির সঙ্গেই ছায়ার মতো ছিলেন কোনও মার্কিন গোয়েন্দা। সিরিয়া বা লেবানন থেকে ইরানি কমান্ডারকে নিয়ে বিমান ছাড়ার পরই তিনি সেই খবর পৌঁছে দেন মার্কিন সেনার কাছে। ফলে আগে থেকেই বাগদাদ বিমানবন্দরে ওঁত পেতে ছিল মার্কিন ড্রোন ‘MQ-9 Reaper’।

সব মিলিয়ে গোটা অপারেশনটি অত্যন্ত জটিল অঙ্কের মতো ধাপে ধাপে সমাধান করে মার্কিন সেনা। গোয়েন্দা খবর ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মদতে  খতম করা হয়েছে ইরানের এলিট গার্ড ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাশেম সোলেমানি-সহ ৮ জনকে।





Others News

সমুদ্রের নীচের প্রাণীদের নিয়ে গবেষণা করতে কুমেরু মহাসাগর পাড়ি দিচ্ছেন বাঙালি গবেষক

সমুদ্রের নীচের প্রাণীদের নিয়ে গবেষণা করতে কুমেরু মহাসাগর পাড়ি দিচ্ছেন বাঙালি গবেষক


নিউজ ডেস্কঃ আন্টার্টিকা মহাদেশের পরিবেশ, জীববৈচিত্র ইত্যাদি নিয়ে গবেষণা অনেক হয়েছে। কিন্তু আন্টার্টিক ওশান বা কুমেরু মহাসাগরের জীববৈচিত্র নিয়ে সেভাবে কোনও পরীক্ষা বা কাজ হয়নি। এবার তার উপরই গবেষণা করতে কুমেরু মহাসাগর পাড়ি দিচ্ছেন শহরের এক বাঙালি বিজ্ঞানী। নতুন বছরেই সেখানে রওনা দেবেন প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুমিত মণ্ডল। তাঁর বক্তব্য, এই মহাসমুদ্রের যে অঞ্চলে এই গবেষণা করবেন তিনি, সেখানে এর আগে সেভাবে কেউ যাননি। ভারত থেকেও সেখানে কেউ গিয়েছেন বলে মনে হয় না।
সাদার্ন সি এবং আন্টার্টিক ওশান অভিযানের একাদশতম বর্ষে এই বাঙালি বিজ্ঞানীকে বেছে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূবিজ্ঞান মন্ত্রক। কেন্দ্রের খরচেই কুমেরু মহাসাগরে যে সব জীব রয়েছে, তাদের বাস্তুতন্ত্র (ইকোলজি) নিয়ে যেমন গবেষণা করবেন সুমিতবাবু, তেমনই বিশ্ব উষ্ণায়নের জেরে সেই সব প্রাণীদের উপর কোনও প্রভাব পড়ছে কি না, তাও পরীক্ষা করে দেখা হবে। মূলত বেনথিক প্রাণীদের উপরই হবে এই গবেষণা। কারণ এই অঞ্চলের প্রাণীদের নিয়ে বিশেষ তথ্য সেভাবে নেই। বেনথিক প্রাণী কারা? এই বিজ্ঞানীর মতে, যে সব প্রাণী সমুদ্রের মাটির নীচে থাকে, কিন্তু খালি চোখে দেখা যায় না। এরা মূলত চিংড়ি, কাঁকড়ার মতো প্রাণীদের খাদ্য হিসেবেই পরিচিত। বিজ্ঞানীদের মতে, তাপমাত্রার পরিবর্তনের প্রভাব এই বেনথিক প্রাণীদের উপর পড়ে। ক্রান্তীয় অঞ্চলে এই প্রাণীদের উপর ইতিমধ্যে গবেষণা হয়েছে। তাই সেখানকার সঙ্গে মেরু অঞ্চলের এমন প্রাণীদের কী তফাৎ, বা তাদের অন্য কোনও বৈশিষ্ট আছে কি না, তাও পরীক্ষা করে দেখা হবে।
এই দুর্গম এলাকায় যাওয়ার জন্য ভারত সরকার দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বিশেষ ক্ষমতা সম্পন্ন জাহাজ ভাড়া করেছে বলে জানা গিয়েছে। মরিশাস থেকে সেই যাত্রা শুরু হবে। গোটা অভিযানের সময়কাল হচ্ছে আড়াই মাস। তবে অন্যান্য জায়গার থেকে এই গবেষণার মূল ফারাক হল, সুমিতবাবুর গবেষণা হবে পুরোটাই জাহাজে। অর্থাৎ, আন্টার্টিকার প্রিদ্স বে’তে (যে অঞ্চল এই গবেষণার জন্য চিহ্নিত হয়েছে) জাহাজে থাকা একটি যন্ত্রের সাহয্যে সমুদ্রের নীচ থেকে মাটি তুলে আনা হবে। তা দিয়েই গবেষণা করবেন সুমিতবাবু। সব মিলিয়ে সেখানে ১০ দিনের বেশি থাকতে পারবেন না তিনি। তারপর দেশে ফিরে সেখান থেকে সংগৃহীত প্রাণীদের এখানে আনা হবে। বাকি কাজ এই বিজ্ঞানীর ল্যাবরেটরিতেই হবে। এই গোটা গবেষণার মেয়াদ তিন বছর।